![]() |
| GBN News |
১৭ দিনে ৬০০ টাকা বৃদ্ধি: গ্যাসের অগ্নিমূল্যে গাইবান্ধায় নাভিশ্বাস, বিপাকে সাধারণ মানুষ
নিজস্ব প্রতিবেদক, গাইবান্ধা নিউজ তারিখ: ২৮ এপ্রিল, ২০২৬
গাইবান্ধা: দফায় দফায় এলপিজি গ্যাসের দাম বৃদ্ধিতে গাইবান্ধার জনজীবনে চরম অস্থিরতা নেমে এসেছে। আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দিয়ে মাত্র ১৭ দিনের ব্যবধানে ১২ কেজি সিলিন্ডারে প্রায় ৬০০ টাকা বৃদ্ধি করায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর মাসিক বাজেটে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। রান্নার খরচ সামলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে সাধারণ মানুষ, যার প্রভাব পড়ছে জেলার হোটেল-রেস্তোরাঁ ও ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও।
মূল্যবৃদ্ধির চিত্র
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)-এর তথ্যানুযায়ী, এপ্রিল মাসের শুরুতে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৩৮৭ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। এর মাত্র ১৮ দিনের মাথায় আবারও ২১২ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম ১,৯৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে গাইবান্ধার স্থানীয় বাজারে এই চিত্র আরও ভয়াবহ।
গাইবান্ধার বাজার পরিস্থিতি
গাইবান্ধা শহরের ডিবি রোড, ভি-এইড রোড এবং পুরাতন বাজার এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সরকার নির্ধারিত ১৯৪০ টাকার পরিবর্তে খুচরা পর্যায়ে গ্যাস বিক্রি হচ্ছে ২০০০ থেকে ২১০৫ টাকায়। ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ সংকটের কারণে তাদেরও বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে।
শহরের আদর্শ পাড়ার বাসিন্দা গৃহিণী শাপলা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "চাল-ডালের দাম আগে থেকেই চড়া, এখন গ্যাসের এই অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধিতে আমাদের মরণ দশা। এক সিলিন্ডার গ্যাস কিনতে গেলে মাসের বাজারের টাকায় টান পড়ছে। এভাবে চললে আমাদের না খেয়ে থাকতে হবে।"
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হোটেল খাতে প্রভাব
গ্যাসের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন গাইবান্ধার ছোট হোটেল ও স্ট্রিট ফুড ব্যবসায়ীরা। দাম বাড়লে খাবারের দাম বাড়াতে হয়, আর দাম বাড়ালে ক্রেতা কমে যায়—এই দ্বিচক্রে পড়ে অনেক ব্যবসায়ী দোকান বন্ধ করার কথা ভাবছেন। শহরের এক চা বিক্রেতা বলেন, "গ্যাসের দাম বাড়লে চায়ের দাম ৫ টাকা থেকে ১০ টাকা করা সম্ভব না, কিন্তু আমাদের খরচ দ্বিগুণ হয়ে গেছে।"
বিকল্প জ্বালানির খোঁজ ও পরিবেশ দূষণ
গ্যাসের চড়া দামের কারণে গাইবান্ধার গ্রামাঞ্চলে আবারও খড়ি বা লাকড়ির চুলায় রান্নার প্রবণতা বাড়ছে। এতে একদিকে যেমন নারীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে পরিবেশের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো বাধ্য হয়ে ড্রেন বা রাস্তার ধারের আবর্জনা ও প্লাস্টিক পুড়িয়ে রান্না করছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি।
জনমনে ক্ষোভ ও প্রতিবাদ
এদিকে দফায় দফায় গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে গাইবান্ধার বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন সরব হয়েছে। সম্প্রতি শহরের প্রধান প্রধান সড়কে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) সহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন। বক্তাদের দাবি, সাধারণ মানুষের আয়ের তুলনায় ব্যয়ের এই পাহাড়সম পার্থক্য সমাজিক বৈষম্য আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের অভিমত
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, জ্বালানি খাতের এই অস্থিতিশীলতা সরাসরি খাদ্য মূল্যস্ফীতিতে প্রভাব ফেলে। ট্রান্সপোর্ট ও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় নিত্যপণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে। গাইবান্ধার সচেতন নাগরিক সমাজ অবিলম্বে বাজার মনিটরিং জোরদার এবং স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য ভতুর্কি মূল্যে গ্যাস সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন।
গ্যাসের এই 'অগ্নিমূল্য' থেকে সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে সরকার দ্রুত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেবে—এমনটাই প্রত্যাশা গাইবান্ধাবাসীর।
গাইবান্ধা নিউজ - সত্যের সন্ধানে সার্বক্ষণিক আপনার পাশে।
#GaibandhaNews #GasPriceHike #LPGPrice #BangladeshEconomy #GaibandhaUpdate
